প্রতিবন্ধীদের ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে গাইডলাইন অনুমোদন
বিশেষভাবে সক্ষম বা শারীরিকভাবে পিছিয়ে থাকা (প্রতিবন্ধী) ব্যক্তিদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সেবা প্রদান নিশ্চিতে প্রতিবন্ধী নাগরিক বান্ধব স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের গাইডলাইন অনুমোদন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ৩১ জুলাই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও আওতাধীন দফতর সংস্থা বা বিভাগ ও জেলাকে গাইডলাইনটি অনুসরণে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।
নতুন গাইড লাইন অনুযায়ী দেশের সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েব এবং ডিজিটাল সেবা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহার উপযোগী হওয়ার দ্বার উন্মুক্ত হলো।
২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ‘ডিজিটাল সার্ভিস ওয়েব ডিজাইনিং ফর ইনক্লুসিভ একসেসিবিলিটি’ নামের এই গাইডলাইনটি তৈরিতে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে এটুআই। গাইডলাইনটি আন্তর্জাতিক ওয়েব একসেসিবিলিটি মানদণ্ড ওয়েব কনটেন্টে একসেসিবিলিটি গাইডলাইন (ডাব্লিউসিএজি) ২.১ অনুযায়ী প্রণয়ন করা হয়েছে।
গাইড লাইনের বিষবস্তু হিসেবে ৬টি পয়েন্ট উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ওয়েব, মোবাইল অ্যাপ, এবং ডিজিটাল পরিষেবায় এনক্লুইভ অ্যাক্সেসিবিলিটি নিশ্চিত করার শর্ত দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এই গাইড লাইনের অধীনে ওয়েব, মোবাইল অ্যাপ এবং ডিজিটাল পরিষেবা অবশ্যই স্ক্রিন রিডিং সফ্টওয়্যারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে৷ এছাড়াও ওয়েব, মোবাইল অ্যাপ এবং ডিজিটাল পরিষেবা ডেভেলপ করার সময় ডাব্লিউসিএজি ২.১ নির্দেশিকা বা এর আপডেট হওয়া সংস্করণ অনুসরণ করতে হবে।
এটুআই’র কারিগরি সহায়তায় আইসিটি ডিভিশনের পলিসি শাখা বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বছরব্যাপী মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে এই গাইডলাইনটি প্রণয়ন করে, যা পরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ অনুমোদন দেয়।
অংশীজনদের মত নেয়ার পর অনলাইন সেবা বা ওয়েব ব্যবহারে ৮টি বাধার কথা উল্লেখ করে গাইডলাইনে ওয়েব অ্যাক্সেসিবিলিটি ফ্রেমওয়ার্ক বেধে দেয়া হয়েছে। এতে যে কোন নন-টেক্সট কন্টেন্টের জন্য টেক্সট বিকল্প প্রদান বা অন্য ফর্মে পরিবর্তন করারা সুবিধা রাখার কথা বলা হয়েছে। এতে করে ব্যবহারকারী অক্ষর ছোট-বড় করা, ব্রেইল সুবিধা, অডিও এবং সহজ প্রতীকী ভাষা ব্যবহারের সুযোগ মিলবে। ব্যবহারকারীর পরিচয় সনাক্তে ক্যাপচা হিসেবে অডিও, ফোন কল, টেক্সট বার্তা, সমীকরণ সমাধানের পাশাপাশি বিকল্প সহজ প্রবেশ সুবিধার কথাও বলা হয়েছে। ব্র্যাক গ্রাউন্ড সাউন্ড ২০ ডেসিবলের নিচে রাখা, ব্যবহারকারীর ইচ্ছে অনুযায়ী রং নির্ধারণ, ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত জুম সুবিধা রাখাসহ সহজ্য ও বোধগম্য ডিজিটাল সেবা টুল ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে গাইডলাইনে।
বস্তুত, ডব্লিউসিএজির চারটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে এই গাইডলাইনটি প্রণয়ন করা হয়, যা দেশের সব ওয়েব ও ডিজিটাল সার্ভিসের তথ্য ও সেবা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সবার জন্য অভিগম্যতা নিশ্চিত করে। এর মাধ্যমে দেশের প্রায় অর্ধ কোটি প্রতিবন্ধীকে দেবে ডিজিটাল সেবা নিয়ে ক্ষাতমায়নের সুযোগ।







